শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম

দেশীয় খামারিদের স্বার্থে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

1702

 মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দেশীয় খামারিদের স্বার্থ ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আসন্ন কুরবানির ঈদে অন্য কোনো দেশ বা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু আনার কোনো প্রয়োজন নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে আসন্ন কুরবানির জন্য দেশে বর্তমানে এক কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি এক লাখ। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ গবাদিপশু দেশে উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে অন্য কোনো জায়গা বা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে পশু আনার কোনো প্রয়োজনই নেই। আমাদের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ গবাদিপশুতে স্বাবলম্বী এবং সরকারের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গাবতলী পশুর হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যা ও চাহিদার ভিত্তিতে পশুর হাটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে না পারে। হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি সার্বক্ষণিক মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অসুস্থ পশুকে তাৎক্ষণিক থার্মোমিটার দিয়ে মেপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন অতিরিক্ত খাজনা বা কোনো ধরনের অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতারণা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার সঙ্গে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কুরবানির ধর্মীয় পবিত্রতা ও সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "আমরা কুরবানি দেই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। তাই এটি হালাল এবং সহিহ উপায়ে হওয়া জরুরি। চোরাই পথে আসা বা অবৈধ গরু দিয়ে কুরবানি দেওয়া কতটুকু সঠিক হবে, তা আমাদের ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকে ভেবে দেখা উচিত এবং এ বিষয়ে ক্রেতাদেরও দেশীয় পণ্য কেনার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।" গাবতলী হাটে কোনো ধরনের অবৈধ ভারতীয় গরু যেন প্রবেশ করতে না পারে এবং খামারিরা যেন আশা নিয়ে এসে খুশি মনে পশু বিক্রি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Link copied!