রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

নজরুল বর্ষ পালনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

1691

নজরুল বর্ষ পালনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত) যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালনের জন্য একগুচ্ছ মেগা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই কর্মপরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে তাঁকে সেভাবে মূল্যায়ন বা রাষ্ট্রীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে জাতীয় কবির প্রতি যে সম্মান দেখানো হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নজরুলের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, দ্রোহের বাণী ও সাম্যবাদী দর্শনকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণার প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই ৩ দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদর্শী ঘোষণানুযায়ী আমাদের মন্ত্রণালয় বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের জন্য এই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”

মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষের সমস্ত কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য খুব শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া নজরুল বর্ষের একটি স্বকীয় ‘অফিশিয়াল লোগো’ ও থিম পোস্টার তৈরি করা হবে এবং বছরব্যাপী কর্মসূচির একটি সমন্বিত ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে। এই ঐতিহাসিক বর্ষটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি বিশেষ ‘স্মারক ডাকটিকিট’ ও উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করা হবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, “নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক মাঠপর্যায়ের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের ৬৪টি জেলায় এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষ উপজেলায় আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত একযোগে ৩ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানমালা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থ বছরের (২০২৫-২৬) মূল বাজেট থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্দিষ্ট ৭৪টি উপজেলা প্রশাসনের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এই আয়োজন শুধু নিছক উৎসব বা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নজরুলের মূল সাহিত্যকর্ম, অনবদ্য সংগীত ও তাঁর দর্শন নিয়ে যাতে তরুণ সমাজ ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা করতে পারে, সেজন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ গবেষণা অনুদান ও বৃত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজরুলের অমর সৃষ্টিকর্ম ও অনুবাদকে বিশ্ববাসীর সামনে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে বিশেষ আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবিকে নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা ব্যক্ত করে আকস্মিকভাবে এই ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছিলেন।

সেদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘আজকে আমি এখানে যখন অনুষ্ঠান দেখছিলাম তখন একটি বিষয় আমি চিন্তা করলাম এবং তারপর আমি মন্ত্রীর সঙ্গে, সচিবের সঙ্গে, উপদেষ্টার সঙ্গে একটু আলাপ করলাম। আমি একটি প্রস্তাব রাখতে চাইছি যে, ২৫ তারিখে কবি নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে আগামী এক বছর আমরা নজরুল বর্ষ ঘোষণা করতে চাই। শুধু ঘোষণাই করতে চাই না, আমি ওনাদেরকে বলেছি যে আলাপ–আলোচনা করে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে কাজী নজরুল ইসলামকে তুলে ধরতে চাই। সেই জন্য আমি বলেছি যে আপনারা চেষ্টা করবেন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে যাতে আগামী এক বছর নজরুল ইভেন্ট বা এ রকম অনুষ্ঠান হয়। যাতে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। কবিকে যাতে নতুন প্রজন্ম ভালো করে চিনতে পারে, জানতে পারে, কবির সম্পর্কে ধারণা করতে পারে।’

আজকের সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নজরুল ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!