প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
1694
১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ আটক করেছে বলে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বিশেষ বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ অনুচ্ছেদে (৩০০ বিধি) দেওয়া এক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সংসদ ও জনগণকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। আজকের এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সরকার এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) দুবাই শাখা থেকে মাত্র কিছু সময় আগে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক বার্তা এসেছে। বিগত সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার (Money Laundering) এবং একাধিক দুর্নীতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ফেরারি আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের একটি আন্তর্জাতিক আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (দুবাই পুলিশ) হেফাজতে নিয়েছে।”
তিনি সংসদকে আরও অবহিত করেন, “বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালতের পক্ষ থেকে আগেই রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুবাই পুলিশের এই আটকের ঘটনার পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁকে অতি দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত এনে আদালতের মুখোমুখি করার জন্য বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি বা বিশেষ চ্যানেলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক সংসদ অধিবেশনে সাবেক আইজিপির এই নাটকীয় আটকের খবর ঘোষণার পরপরই সংসদ কক্ষে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি নেমে আসে এবং তারা টেবিল চাপড়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অঢেল সম্পদ, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, শত শত বিঘা জমি ও রিসোর্ট গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত গোপনে সপরিবারে দেশ ত্যাগ করে সিঙ্গাপুর হয়ে দুবাইতে আত্মগোপন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং দেশের আদালত তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করে বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের অর্থ পাচারকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের যেখানেই থাকুক না কেন, আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।