মঙ্গলবার ১৬, জুন ২০২৬

১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

1694

আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র কখনোই এক সঙ্গে যায় না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন তথা বিএনপি সমর্থিত সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিএনপি কোনো হঠকারী বা বিপ্লবী দল নয়, এটি মূলত একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি); যা দেশের সকল মত ও পথের মানুষকে সমানভাবে ধারণ করে।’

বিগত স্বৈরাচারী আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল বৈধ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম পুনরায় চালুর আইনি চেষ্টা করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার শতভাগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা যখন স্বাধীনতা দিচ্ছি, ঠিক তখন কিছু কর্পোরেট মালিকপক্ষের লোকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক পেশাদার সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাবেক ও বর্তমান সরকারের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার তুলনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বিএনপি যতবারই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে, ঠিক সেই সময়েই বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত ছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।’

তিনি তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) বিএনপি এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যাপক মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে মিলে এই অপপ্রচার রুখে দিতে হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশবরেণ্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা এবং বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাংবাদিকদের জন্য একটি যুগোপযোগী নতুন বেতন কাঠামো (ওয়েজ বোর্ড) গঠনের দাবি জোরালোভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরেন।

Link copied!