প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
2001
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে আটকে দেওয়ার বিষয়টি কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মের আওতায় নেওয়া পদক্ষেপ।
প্রায় ৪০ দিনব্যাপী সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই যুদ্ধবিরতির আওতায় প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই অনুমতি ছিল শর্তসাপেক্ষ।
ইরানি পক্ষ জানায়, ইসরায়েলের লেবাননে হামলা বন্ধের ওপর নির্ভর করছিল এই প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর প্রথম সাত দিনে মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে নতুন করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আবারও প্রণালী উন্মুক্ত করা হয়। সেই সময় বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পুনরায় পার হওয়ার চেষ্টা করলেও সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এতে দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও সমালোচনা শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রথমত, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে; কোনো সামরিক বা যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, কোন জাহাজ চলাচল করবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তৃতীয়ত, নির্ধারিত নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি দ্বিতীয়বার প্রণালী অতিক্রমের সময় প্রয়োজনীয় পূর্বানুমতি গ্রহণ করেনি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সেটিকে অগ্রসর হতে দেওয়া হয়নি। একই ধরনের ঘটনা অন্যান্য দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে অনেক সময় পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন না হওয়ায় জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। বাস্তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নয়।
তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সংকটে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন ইরানকে অনুপ্রাণিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক বাস্তবতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির বিষয়টি ইরান উপলব্ধি করে এবং তা বিবেচনায় নেয়।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য বাংলাদেশ প্রথমে যে তালিকা দিয়েছিল তাতে কিছু ত্রুটি ছিল, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের আবেদন আগে জমা পড়ায় নির্ধারিত ক্রম অনুসারে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।