শুক্রবার ০১, মে ২০২৬

০১ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

বিএনপি–চীন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: সম্পর্ক জোরদারে নতুন দিকনির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২ এএম

1696

বিএনপি প্রতিনিধিদল ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের দৃশ্য

চীনে সফররত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার চীনের আইডিসিপিসি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। অপরদিকে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তীতে খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও জানান, ‘Comprehensive Strategic Cooperative Partnership’ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সফর বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মানবিক সমস্যা সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চীনা ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি পরিশোধন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচিত হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে রোবোটিক সার্জারি, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার আশ্বাস দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের নিয়মিত সংলাপ ও যোগাযোগ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Link copied!