মঙ্গলবার ০৫, মে ২০২৬

০৫ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

মজুত পর্যাপ্ত, তবু পেট্রোল-অকটেন সংকট কেন? সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, আতঙ্ক ও কালোবাজারি নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

1686

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাসের মধ্যেও পেট্রোল ও অকটেন সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং কালোবাজারির অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে সরকার তেল রেশনিংয়ের ঘোষণা দিলে ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সেই সময় থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ে। পরে রেশনিং প্রত্যাহার করা হলেও স্বাভাবিক সরবরাহ পুরোপুরি ফেরেনি বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে—আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, মজুতদারি এবং কালোবাজারি।
দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে প্রাইভেটকারে নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং মোটরসাইকেলে সীমিত পরিমাণ অকটেন দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বেশি তেল সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি স্টেশনে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় লিটারপ্রতি প্রায় আড়াইশ টাকায় অকটেন বিক্রির খবরও সামনে এসেছে, যা সরকারি মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।
সরকারও স্বীকার করছে, অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার চক্র পরিস্থিতিকে জটিল করছে। সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আতঙ্ক বা কালোবাজারিকে দায়ী করলে পুরো চিত্র স্পষ্ট হয় না। সরবরাহ বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা, কিছু এলাকায় অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং অনেক পাম্পে নিয়মিত সরবরাহ না থাকাও সংকটের অন্যতম কারণ।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে সমন্বিত হয়নি। ফলে কোথাও মজুত থাকলেও শেষ পর্যায়ে ভোক্তার কাছে জ্বালানি পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, তথ্যের স্বচ্ছতার অভাবও পরিস্থিতি জটিল করছে। সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, অন্যদিকে পাম্প মালিকদের অনেকেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ার কথা বলছেন।
এদিকে সরকার সংকট নিরসনে অকটেন সরবরাহ ২০ শতাংশ, পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ২৫ হাজার টনের বেশি অকটেন মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত আমদানিকৃত জ্বালানিবাহী জাহাজও দেশের জলসীমায় অবস্থান করছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে জ্বালানির ঘাটতি নেই। আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটা এবং কিছু অসাধু চক্রের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকট পুরোপুরি কাটাতে শুধু মজুত থাকলেই হবে না, সরবরাহ চেইন, তদারকি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ থেকেই যাবে।

Link copied!