প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
1694
০৫ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকটের কারণে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
গত ১৪ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হলে রিফাইনারির ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও উৎপাদনে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। ওই জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হলে ৭ মে থেকে পুনরায় পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ক্রুড অয়েল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজে করে তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মূলত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয় চাহিদা অনুযায়ী।
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন করে কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি। ফলে ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও স্বাভাবিক রাখবে।