প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
1712
২৬ মে ২০২৬, ০২:০৬ এএম
সুন্দরবনের শ্যালা নদী এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে সুন্দরবনের বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছে। এরপর গত ১৩ মে বিকেল ৫টা থেকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন কোকিলমনির সদস্যরা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করে, যা টানা দুই দিন পরিচালিত হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। পরে তীব্র অভিযানের মুখে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তিনজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মো. এনায়েত (২৫)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের দস্যু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
এদিকে, গত ১৩ মে করিম শরীফ বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে তাদের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সুন্দরবনের জেলে ও স্থানীয় জনগণ নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।