সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

বরগুনায় খাল খননে এক ফসলি জমি হবে তিন ফসলি, শনাক্ত ৬০৯টি মরা খাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

1689

বরগুনা জেলায় দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬০৯টি মৃত বা ভরাট হয়ে যাওয়া খাল শনাক্ত করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে খননের আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৬৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৯টি খালের খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৯৯টি খাল জরুরি ভিত্তিতে খননের জন্য প্রস্তাব আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মতে, এসব খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বরগুনার কৃষিজমিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে অনেক জমি এক ফসলি হলেও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে একই জমিতে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট—এই দুই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। খালগুলো সচল হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ক্রোক এলাকায় একটি খাল পুনঃখননের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে দীর্ঘদিন পর মাটি ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনরায় খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি সচল হলে আশপাশের জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যাও দূর হবে।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, আগে খাল বন্ধ থাকায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতো। এখন খনন কাজ শুরু হওয়ায় পানি প্রবাহ ফিরছে এবং কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরেক কৃষক জানান, আগে বৃষ্টির পানি জমে জমি নষ্ট হয়ে যেত। আবার শুকনো মৌসুমে পানি পাওয়া যেত না। এখন খাল খননের ফলে সারা বছর পানির ভারসাম্য বজায় থাকবে।

স্থানীয় একজন ধর্মীয় নেতা ও বাসিন্দা জানান, খাল সচল হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকাবাসী দৈনন্দিন কাজেও খালের পানি ব্যবহার করতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরগুনার কৃষি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনমানও উন্নত হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উপকূলীয় এই জেলায় খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে রয়েছে। সরকারিভাবে ধাপে ধাপে এসব খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকটি খালে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খালগুলো সচল হলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Link copied!