প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
1691
২৬ মে ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় কোরবানির জন্য ১৯ হাজারের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু থাকায় এবার উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবছর পাকুন্দিয়ায় মোট ১৯ হাজার ২৬৬টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে স্থানীয় চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৯৪০টি পশু। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে অন্তত ৩২৬টি পশু।
উপজেলা জুড়ে রয়েছে ২ হাজার ৯৯১টি ছোট-বড় খামার, যেখানে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া লালন-পালন করা হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে—
১৪ হাজার ৬৯৩টি গরু, ২৪টি মহিষ, ৪ হাজার ৩৮০টি ছাগল এবং ১৬৯টি ভেড়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে খামারিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পশুগুলোকে মোটাতাজা করতে প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে গমের ভূষি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা, গোসল করানো ও খামার পরিষ্কার রাখার কাজ চলছে।
খামারিরা জানিয়েছেন, এবছর গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পশুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
দরগা বাজার এলাকার রুবেল এগ্রো ফার্মের মালিক রুবেল মিয়া জানান, তার খামারে ৪০টি গরু রয়েছে, যেগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারে লালন-পালন করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদী ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের খামারি রিপন মিয়া জানান, তিনি এবারের ঈদের জন্য ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তবে খাদ্যের দাম বাড়ায় প্রতি গরুর পেছনে খরচ অনেক বেড়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলী আকবর বলেন, এবছর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে যাতে অসুস্থ বা ক্ষতিকরভাবে মোটাতাজা পশু বাজারে প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি আরও জানান, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু থাকায় পাকুন্দিয়ার খামারিরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পশু সরবরাহ করতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।