প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
1706
১৫ জুন ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া রাইশা মনি (৮) নামে এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদের তীর থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নদ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত শিশু রাইশা মনি রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকার রাশেদুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় কাঁচকোল বাজার নবীজান নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে রাইশা তার বেশ কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে বাড়ির পাশে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে সে নদের কিনারা থেকে অসাবধানতাবশত কিছুটা দূরে গভীর পানিতে চলে গেলে তীব্র স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সমবয়সী শিশুরা তাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা চিৎকার করে স্থানীয়দের খবর দিলে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে রাতভর নদে খোঁজাখুঁজি চালান
ঘটনাটি চিলমারী ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে উদ্ধার কাজে আরও গতি আনতে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল এসে দীর্ঘ সময় ধরে নদীতে নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে চিরুনি অনুসন্ধান চালায়। তবে নদের প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ডুবুরি দলটি ফিরে যায়
অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের নদের তীরে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাছে গিয়ে তাঁরা দেহটি নিখোঁজ রাইশার বলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদের তীর থেকে রাইশার নিথর দেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের কর্মীদের সঙ্গে উদ্ধার কাজে দিনরাত অক্লান্ত সহযোগিতা করেছেন। ফুটফুটে এই শিশুটির এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।