শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম

তথ্য সহায়তায় সংসদে 'বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬' উদ্বোধন করেন স্পীকার

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

1696

বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬' উদ্বোধনে বক্তব্য দেন স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, জাতীয় বাজেট কেবল রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য গবেষণাভিত্তিক তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহের মাধ্যমে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’ সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও তথ্যসমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এমপি, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান এমপি, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

স্পিকার বলেন, ১৯৯১ সালে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের উদ্যোগে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। তিনি বলেন, বাজেট দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতা এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের কারিগরি সহায়তায় সংসদের বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদীয় কার্যক্রমের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেট হেল্পডেস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বাজেটের অর্থায়নের প্রধান উৎস হলো জনগণের কর, দেশি-বিদেশি ঋণ এবং বৈদেশিক অনুদান। এই অর্থের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাজেটের আকার বড় হওয়াই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়; বরং কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের অর্থ যেন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যয় না হয়ে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জাতীয় বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি দেশের উন্নয়ন দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিচ্ছবি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাজেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতা অনেকাংশে তার অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।

পরে স্পিকার দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!