প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
1700
১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ভোলার দৌলতখান পৌরশহরের লাহাড়ীজঙ্গল মোড় এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া চায়ের দোকান ও মুদি দোকানের ধ্বংসস্তূপের চিত্র।
ভোলার দৌলতখানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে দৌলতখান পৌরশহরের লাহাড়ীজঙ্গল মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত তিন ব্যবসায়ী হলেন—চায়ের দোকানদার জাকির হোসেন, ফল ব্যবসায়ী আকবর আলী এবং মুদি ব্যবসায়ী মো. বাবুল।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, গভীর রাতে হঠাৎ জাকিরের চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ভোর হওয়ায় সে সময় আশপাশে মানুষ কম ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের আরও দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে দোকানগুলোতে থাকা মূল্যবান মালামাল, আসবাবপত্র ও ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার জাকির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে দোকানটি গড়ে তুলেছিলাম। আগুনে আমার উপার্জনের শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব আর পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।" সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন পুনর্বাসনের জন্য সরকারি জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সফলভাবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে চায়ের দোকানের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত ও তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।