শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬

শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

হাসিনাকে ছাড়াই আওয়ামী লীগ চলতে পারবে: শেখ হাসিনা পুত্র জয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

2008

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেতৃত্বে না-ও দেখা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে আত্মগোপনে রয়েছেন। আর যারা দেশে ছিলেন, তাদের অনেকেই কারাগারে আটক। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসভবনে গিয়ে এই সাক্ষাৎকার নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, ‘অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটা সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় দল। আমাদের ৪০-৫০ শতাংশ ভোট আছে। আপনি কি মনে করেন, ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে? দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?’

সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে কি তিনি রাজনীতিতে আর সক্রিয় থাকবেন না? জবাবে জয় বলেন, ‘না, তার বয়স হয়েছে (৭৮ বছর)। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হতো। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।’
এ সময় ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’

আবারও প্রশ্ন আসে—শেখ হাসিনাকে ছাড়াই কি আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারে? উত্তরে জয় বলেন, ‘হ্যাঁ। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরোনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।’

সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিতর্কিত নির্বাচন ও বিরোধী দল দমনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শ্রীনিবাসন জৈন ‘আয়রনি’ আছে কি না জানতে চাইলে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি। তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের সিদ্ধান্তে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘আমাদের জরিপ, আমেরিকানদের জনমত জরিপ- সবই দেখাচ্ছিল আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। আমাদের কারও কোনো অনিয়মের প্রয়োজন ছিল না।’ তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের ভেতরের কিছু ব্যক্তি নিজের উদ্যোগে অনিয়ম করেছে এবং এতে তিনি ও তার মা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কারচুপি হয়নি।’ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন।

সহিংসতার সম্ভাবনা নিয়ে আগের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, ‘আমি সহিংসতার হুমকি দিইনি। আমি বলেছি, আমাদের যদি সহিংসভাবে দমন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না।’

ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন, ‘অবশ্যই না। দেখুন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে আপনি কি মনে করেন এই রেজিম এখনো টিকে থাকত?’

জুলাই হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে অনুশোচনার প্রশ্নে জয় বলেন, ‘আমাদের সরকার মিসহ্যান্ডেল করেছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, এসব হত্যাকাণ্ড তার মায়ের নির্দেশে হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমার মা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তাহলে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন।’

Link copied!