প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
2009
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের যে মজুত রয়েছে, তাতে অন্তত আগামী দুই মাস কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ৯১৬টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেলও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৩ লাখ ৬ হাজার লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার এবং পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটারের বেশি অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার হয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে এখন ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন এবং পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন, যা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তিনি আরও জানান, দেশের একমাত্র সরকারি তেল পরিশোধনাগার Eastern Refinery Limited বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। তবে এটি দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। বাকি জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
রিফাইনারির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বর্তমানে সীমিত আকারে চালু রয়েছে এবং দুটি ইউনিট সচল আছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করতে পারবে।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যে তেল আসে, তার বড় অংশই এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে একটি অপরিশোধিত তেলের জাহাজ রওনা হয়েছে, যা এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই সময় পর্যন্ত বিদ্যমান মজুত দিয়েই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।