প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
2013
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামী ৭ দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। জানা গেছে, মুয়াজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের অনুসারী।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে মুয়াজ ও হামিদুরের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনার কিছু সময় পর হামিদুর বাইরে গেলে তাকে স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে মুয়াজ একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত দুই শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান জানান, গুরুতর আহত মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপাতত এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।