রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

সংসদে প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ, এমপিদের অধিকার খর্বের অভিযোগ হাসনাত আব্দুল্লাহর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

2000

হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌখিক জবাবের পরিবর্তে শুধুমাত্র টেবিলে উত্তর উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, এতে সংসদ সদস্যরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, একটি কার্যকর সংসদ পরিচালনার জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করা এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো কেবল টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে, ফলে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে না।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের কথা বলার সময় খুব সীমিত। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে হয়। কিন্তু প্রশ্নোত্তর প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যাওয়ায় জনগণের পক্ষে কথা বলার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এতে সংসদ কার্যত একমুখী বা স্ক্রিপ্টনির্ভর অধিবেশনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কার্টুন বা ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট শেয়ার করার অভিযোগে একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে এ ধরনের পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ কি যথাযথভাবে হচ্ছে, নাকি বিরোধী মত দমনে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার আইনের নির্দিষ্ট ধারা কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

তার বক্তব্যের জবাবে সংসদের স্পিকার জানান, কার্যপ্রণালি অনুযায়ী অধিকার সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।

অন্যদিকে চিফ হুইপ সংসদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদ সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তবে সময় স্বল্পতার কারণে কিছু প্রশ্ন টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় বাড়িয়ে এই প্রক্রিয়াকে আবারও স্বাভাবিক করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্রের কারণে যদি কাউকে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে সংসদে এই বিতর্ক সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Link copied!