শুক্রবার ০১, মে ২০২৬

০১ মে ২০২৬, ০৩:২২ এএম

লিবিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণে বিশেষ সুযোগ চাইল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

1684

লিবিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণের জন্য বিশেষ সুযোগ বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রী জামাল শাবান–এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

গত ১৯ এপ্রিল লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতা, বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা, আকামা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং শ্রম ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম শ্রমসচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈধকরণে বিশেষ সুযোগের আহ্বান

রাষ্ট্রদূত বৈঠকে উল্লেখ করেন, লিবিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উন্নয়ন ও সেবাখাতে কর্মরত রয়েছেন। তবে অনেক কর্মী বৈধ কাগজপত্র জটিলতায় সমস্যার মুখে পড়ছেন। উচ্চ ফি, কর এবং জরিমানাকে বৈধকরণের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ বৈধকরণ সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে ফি ও জরিমানার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

শ্রমখাতে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

বৈঠকে উপ-শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা লিবিয়ার শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি শ্রমবাজারকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও সুশৃঙ্খল করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান।

দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক কার্যকর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সমঝোতা বাস্তবায়ন তদারকিতে যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ, আটক এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধারে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে এ সমস্যা মোকাবিলায় দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সফরের আমন্ত্রণ

রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সেই সফর বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় শ্রমিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, প্রযোজ্য আইন মেনে চলা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের অধিকার সুরক্ষায় তথ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

Link copied!