প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
1695
১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার হোটেলের সম্মেলনকক্ষে সিএনআরএস আয়োজিত ‘নদী মেলা ২০২৬’
বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামগ্রিক অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে নদীকেন্দ্রিক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র নদীভাঙন, নাব্যতা হ্রাস করাসহ মারাত্মক দূষণ ও অবৈধ দখলের কারণে দেশের নদীগুলো আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
আজ সোমবার দুপুরে সিলেট বিমানবন্দর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক দিনব্যাপী ‘নদী মেলা ২০২৬’–এর বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন। এর আগে আজ সকালে তিনি বেলুন উড়িয়ে এই ব্যতিক্রমী নদী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের (সিএনআরএস) আয়োজনে এবারের নদী মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নদীর জন্য মানুষ, মানুষের জন্য নদী’। প্রকৃতি, নদী ও মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক সাধারণ মানুষের মাঝে সুন্দরভাবে তুলে ধরা এবং নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন করা হয়। আজ বিকেলের দিকে মেলাটি সফলভাবে শেষ হয়।
মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন যে বর্তমান সরকার নদী পুনঃখনন, নদীর তীর সংরক্ষণ, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও নিশ্চিতকরণ করাসহ নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদীর অববাহিকায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে নদী রক্ষায় শুধু এককভাবে সরকারি উদ্যোগ কখনো যথেষ্ট নয়। নদীকে বাঁচাতে হলে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
মেলার প্রধান আয়োজক সংস্থা সিএনআরএসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিম হোসেন বলেন যে এই মেলা কেবলই একটি উৎসব নয়, বরং জ্ঞান বিনিময়, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তিনি জানান যে ‘দ্য পিপলস রিভারস্কেপ’ প্রকল্পের আওতায় সিলেটের পিয়াইন, সারি ও ধলাই নদীর অববাহিকায় অংশগ্রহণমূলক টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের সমন্বয়ে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্রকৃতিভিত্তিক স্থায়ী সমাধান, নদীতীর সুরক্ষা এবং সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে যা নদী সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করাসহ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অক্সফাম নেদারল্যান্ডসের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট লিড ভেরোনিকা বারকো জোরামস ও পলিসি লিড (ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স) পেত্রিকেলা ইয়োহানা ফ্রান্সিস্কা মারিয়া। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন অক্সফাম নেপালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজন সুবেদি, ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার (ওয়াটার) মো. সিবলী সাদিক, অক্সফাম নেপালের Research Advisor সংঘা শ্রেষ্ঠা এবং অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এনামুল মজিদ খান সিদ্দিকী। মেলাটিতে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, অক্সফাম, ট্রোসা প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সুশীল সমাজ ও নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর শত শত প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে আয়োজকেরা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে এই নদী মেলার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে নদী সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পাবে, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও বেশি জোরদার হবে এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ শক্তিশালী হবে।