প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ এএম
1702
০১ মে ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বহুল আলোচিত মামলাগুলোর বিচার। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ শ্রমিক, আহত হন প্রায় দুই হাজার। এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পর দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে মাত্র একটি নিষ্পত্তি হলেও বাকি পাঁচটি এখনো বিচারাধীন।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা, ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান
রানা প্লাজা ধসের পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনের মৃত্যু এবং বাদ পড়ায় বর্তমানে মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৮।
মামলাটি বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৮ এ বিচারাধীন। মোট ৫৯৪ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে ৩০ এপ্রিল।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন স্থগিতাদেশসহ নানা জটিলতায় বিচার বিলম্বিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই মামলার রায় হতে পারে বলে আশাবাদ রয়েছে।
ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাও ঝুলে
নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে দায়ের হওয়া ইমারত আইনের মামলাও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
সর্বশেষ নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় পরবর্তী শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক পর্যায়ে বিচার
রানা প্লাজার অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণসহ দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। মোট ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ মে।
অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলা বিচারাধীন
ধসের পর সোহেল রানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায়ও সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে।
একমাত্র নিষ্পত্তি সম্পদ গোপনের মামলা
ছয় মামলার মধ্যে কেবল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে। এ মামলায় ২০১৭ সালে সোহেল রানাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং সম্পত্তির একটি অংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ হয়।
বিচার বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে। আসামিপক্ষ বলছে, বিচার শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিনা নিষ্পত্তিতে কারাভোগ করছেন প্রধান আসামি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, দ্রুত বিচার সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শুধু বাংলাদেশের শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করেনি, বরং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও নতুন করে সামনে এনেছে। নিহতদের স্বজন ও আহত শ্রমিকদের প্রত্যাশা— এই বহুল আলোচিত ঘটনার বিচার যেন আর বিলম্বিত না হয়।