প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
1695
০১ মে ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম
দেশের সড়ক অবকাঠামোর নাজুক চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন সড়ক প্রকল্প নিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে রাস্তা মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অবকাঠামো খাতে ‘অনেক ব্যয় দেখানো হয়েছে’ কিন্তু বাস্তবে জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের অবস্থা এখনো নাজুক।
সরকারদলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি তুললে জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অবকাঠামো খাতে অনেক ব্যয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের জাতীয় মহাসড়ক বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়ক বলেন এবং জেলা মহাসড়ক বলেন, তার অবস্থা জরাজীর্ণ এটা সত্য।’
মন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারের দাবির মুখে পড়েন। গত দুই মাসে তিনি যে ডিও লেটার পেয়েছেন, তাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এসব রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য।
তবে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা জানেন। আমার জানামতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিগত দিনের হিসাবে।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্প একান্তই দরকার, সেগুলোকে চিহ্নিত করে মাননীয় মেম্বার অব পার্লামেন্ট এখানে সব দলের যাঁরা আছেন, তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার নিশ্চয়ই আগামী দিনের বাজেটে এই প্রকল্পগুলো আনবে।’
দেশীয় অর্থায়নের পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার সমন্বয়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সব দলের সংসদ সদস্যদের মতামত নিয়ে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে মন্ত্রী জানান, ভারতীয় ঋণ সহায়তার তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাদ পড়ায় বর্তমানে অর্থায়ন সংকট রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ধাপে ধাপে উন্নয়নকাজ চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।