প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
1689
০১ মে ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আজ মহান মে দিবস—শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীকী দিন। তবে বাস্তবতার নির্মম চিত্র হলো, এই দিনেও জীবিকার তাগিদে রাজধানীর সড়কে কাজের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে হাজারো দিনমজুরকে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা ও নতুন বাজার এলাকায় দেখা যায়, অন্য দিনের মতোই ভোর থেকে কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছেন শ্রমিকরা। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে হাতুড়ি, আবার কেউ ঝুড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছেন—একটি দিনের আয়ের আশায়।
সকালের বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক সেখানে উপস্থিত হন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো আজও খুব সকালে কাজের আশায় রাস্তায় আসতে হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে জানলেও তাদের জন্য তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা—পেটের দায়ই এখানে বড় বাস্তবতা। বৃষ্টিতে ভিজেও তারা দাঁড়িয়ে আছেন এই আশায়, যদি কোনো কাজ মেলে, তবে দিনের শেষে পরিবারের জন্য খাবার নিয়ে ফিরতে পারবেন।
বাড্ডা এলাকায় অপেক্ষমাণ জয়নাল হোসেন জানান, টানা নয় দিন বেকার থাকার পর আগের দিন কাজ পেয়েছিলেন তিনি। আজও সেই আশাতেই সকালে বের হয়েছেন। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত কাজ পাওয়া গেলেও এখন শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই-এক দিন কাজ পেলেই সেই আয়ে সংসার চালাতে হয়।
মাসের শুরুতেই ভাড়ার চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বাসাভাড়া পরিশোধ করতে হবে, কিন্তু হাতে কোনো অর্থ নেই। আগামী কয়েক দিন কাজ না পেলে সমস্যায় পড়তে হবে বলেও জানান তিনি।
একই চিত্র তুলে ধরেন নারী শ্রমিক পারুল। তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য, কিন্তু অসুস্থ স্বামীর কারণে উপার্জনের দায়িত্ব তার কাঁধে। অনিয়মিত কাজের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। সপ্তাহে মাত্র এক-দুদিন কাজ পান, যা দিয়ে কোনোমতে খরচ মেটাতে হয়।
পারুল বলেন, সময়মতো বাড়িভাড়া দিতে না পারায় প্রায়ই বাড়িওয়ালার চাপের মুখে পড়তে হয়। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি। তিনি আশা করেন, শ্রমজীবী মানুষের এই দুরবস্থার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দেবে।
শ্রমিকদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন কাজ পাওয়া যেত, এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাজের স্বল্পতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত আয়ের কারণে তাদের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগো শহরের হে মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনে বহু শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের আত্মত্যাগের স্মরণে বিশ্বব্যাপী দিনটি শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।