প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
1710
০৬ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুরুতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলার কথা বলা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে—পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও সন্তান মিলে তাকে হত্যা করেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১ মে) উপজেলার উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রাকিব (১৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কিছুদিন আলাদা থাকার পর প্রায় ৮–৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে আবার পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন, কিন্তু বিরোধ থামেনি।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে দেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। পরে স্ত্রী ও ছেলে মিলে ঘরে থাকা দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় প্রচার করে—অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তদন্ত জোরদার করা হয়।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলের তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণের পর জিজ্ঞাসাবাদে মা ও ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ বাড়ির বাইরে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটি সন্ত্রাসী হামলা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে।