শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম

 চীন সফরেও ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১১:১০ এএম

1716

ডোনাল্ড ট্রাম্প

চীন সফরকালেও ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার এমন বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি ইরান ইস্যুর পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কেও কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং তার প্রশাসনের সময়কে শক্তিশালী অগ্রগতির সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ সময় তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর নীতির সমালোচনাও করেন। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের সময় শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধি, অবসর তহবিলের উন্নয়ন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মতো নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছিল।

একই পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চীন সফরের আগে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন যে, চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। সেই মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের নির্ধারিত শর্ত গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশেষ করে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের মতোই কঠোর রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গ গুরুত্ব পেলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন সফরের প্রথম দিনে ইরান সংকট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না হলেও পরবর্তী বৈঠকগুলোতে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে সফরের দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার দিকে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দুই প্রভাবশালী শক্তিধর দেশের আলোচনার ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!