প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
1699
২৫ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ খসড়া প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন প্রস্তাব সংকট নিরসনের পরিবর্তে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটিতে উঠলে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ভেটো প্রয়োগ করতে পারে। এর ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবে ইরানের প্রতি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং মাইন স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে চীনের দাবি, পুরো প্রস্তাবটি একপেশে দৃষ্টিভঙ্গিতে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে পরিস্থিতির প্রকৃত বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি।
চীনা রাষ্ট্রদূত ফু চং বলেন, এমন সংবেদনশীল সময়ে কোনো পক্ষকে একতরফাভাবে দায়ী করে প্রস্তাব আনা সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, সংকট মোকাবিলায় চাপ বা নিন্দা প্রস্তাবের পরিবর্তে সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার উদ্যোগ বেশি কার্যকর হতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদে তড়িঘড়ি করে কোনো প্রস্তাব পাস হলে তা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগেও একই ধরনের একটি মার্কিন সমর্থিত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। সে সময়ও দুই দেশ অভিযোগ করেছিল, প্রস্তাবের ভাষা ও শর্তাবলি ইরানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে পরাশক্তিগুলোর অবস্থান স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে হরমুজ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।