শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

নতুন সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে সংবাদপত্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:০১ এএম

1698

দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সরকারের প্রথম তিন মাসে সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি, ফলে সংবাদপত্রগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে তাদের সন্তোষের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ আশা প্রকাশ করে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যম নিয়ে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে প্রচলিত গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট অনেক আইন পুরোনো এবং সেগুলোর কিছু ধারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষ করে পত্রিকার ঘোষণাপত্রের ফর্ম ‘বি’-তে প্রকাশকদের যেসব অঙ্গীকার করতে হয়, তার কিছু অংশ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ।

সংগঠনটির নেতারা ওই ধারা বাতিলের দাবি জানান এবং দ্রুত গণমাধ্যম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আগামী জুনের মধ্যে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর প্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়।

এ সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চায়। শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা।

Link copied!