প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
1697
১৩ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বক্তব্য রাখছেন
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আলোচনার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য শোনা হবে এবং দাবিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও বাস্তবতা যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। সরকার আন্দোলনকারীদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং তাদের দাবিগুলো কতটুকু যৌক্তিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
আন্দোলনের কারণে দেশের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কী ধরনের বক্তব্য দিয়েছে, সেটি সরকারের বিবেচনার প্রধান বিষয় নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সময় চাওয়ায় তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। আদালত যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় প্রদান করে থাকে, তেমনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবীরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়নিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।