প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
1698
১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের স্ট্র্যাটেজিক ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টার সময় ইরানের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন প্রশাসন বলছে, মার্কিন নৌবাহিনীর দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরান হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একমুখী (কামিকাজে) ড্রোনের সাহায্যে হামলার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক রাডারে ইরানের দুটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন শনাক্ত হয় এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে নিখুঁতভাবে সেগুলো গুলি করে সাগরের বুকেই ভূপাতিত করা হয়। তবে ঠিক কোন কোন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিংবা এই সামরিক ঘটনার সময় অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারাও কৌশলগত কারণে এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বৈরথের অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন। তিনি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তি চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইউরোপের কোনো একটি নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক স্থানে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই মেগা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে তিনি নিজে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না বলেও আগেভাগেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে একাধিক সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ ও তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথা স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে ড্রোন ভূপাতিত করার মতো সামরিক সংঘাতের খবর মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় ও জটিল করে তুলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ড্রোন ভূপাতিত বা ধ্বংসের বিষয়ে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বিবৃতি জানানো হয়নি। ফলে হরমুজ প্রণালির প্রকৃত সামরিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।