শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি: ভারতজুড়ে আরশোলাদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

1713

দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার মুখোশ পরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ।

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরির নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া না হলে অথবা তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের আন্দোলন শুরুর হুমকি দিয়েছে এই প্রতীকী দলটি।

রোববার (৭ জুন) ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে শত শত ছাত্রছাত্রী, তরুণ পেশাজীবী এবং সমর্থকদের নিয়ে এক বিশাল ও অভিনব বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর দলটির পক্ষ থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

অনলাইনে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি ক্রমেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং যন্তর মন্তরের বিক্ষোভটি ছিল ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম কোনো বড় মাঠপর্যায়ের সমাবেশ। সমাবেশে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা তেলাপোকার (আরশোলা) মুখোশ পরে নিট (NEET), সিবিএসই (CBSE)-সহ বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণ সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে সিজেপি নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেবে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক নিজের একটি পোস্টে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, *‘‘আন্দোলন কেবল শুরু হয়েছে। শনিবার আমাদের হাজার হাজার অনুসারী ইতিহাস তৈরি করেছে। একজোট হলে তেলাপোকাও কী করতে পারে, তা আমরা যন্তর মন্তরে সরকারকে ভালোভাবেই দেখিয়ে দিয়েছি।’’*

অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বিপুল সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী অনেক তরুণ ও শিক্ষার্থী এর আগে কখনও কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বিক্ষোভে অংশ নেননি। কিন্তু দেশের বর্তমান ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চরম হতাশা থেকেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আমরা যদি এখন আওয়াজ না তুলি, তাহলে এই ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

অভিজিৎ কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেন, *"কেন্দ্র যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই আন্দোলন থামবে না। ধর্মেন্দ্র প্রধান একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও আবেগের প্রতি অন্যায় করেছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি তাকে সরানো না হয়, তবে আমরা আরও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে আবার মাঠে নামব।"

Link copied!