প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:০৪ এএম
1696
১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
“জাতীয় শান্তি রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারীদের সক্রিয় ও সাহসী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নারীদের ঘরের কোণে বন্দি রেখে কিংবা তাঁদের নিরাপত্তাহীনতায় রেখে কোনো সমাজের পক্ষেই টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়,” বলে মন্তব্য করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কারিতাস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক’ এক দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা ও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইলমা’ এবং জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন ‘বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’ (বিএনপিস) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। পুরো অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিকভাবে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক বিশেষ সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’।
উন্নয়ন সংস্থা ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুন নাহার, কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মার্সেল রতন গুদা এবং পাঁচলাইশ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোকেয়া বেগম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ (ন্যাস্প) মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সর্বস্তরের স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি যেকোনো সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ সমাজকে একযোগে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, যুব সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত আলোচনা থেকে বক্তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি দ্রুত হাতে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর আহ্বান জানান:
১. স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো।
২. নারীর অধিকার রক্ষায় যুব সমাজকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্তকরণ।
৩. শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় সব মহলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
৪. নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং ডিজিটাল অপরাধ থেকে নারীদের সুরক্ষায় দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করা।
৫. প্রান্তিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার হার দ্রুত বৃদ্ধি করা।
৬. সুস্থ সমাজ গঠনে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা।
৭. গ্রামীণ সমাজ থেকে কুখ্যাত যৌতুক প্রথা চিরতরে বন্ধ করা।
৮. নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
৯. প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নারীদের সুযোগ ও কোটা বৃদ্ধি করা।
১০. কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নারীদের আধুনিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া।
অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ মডারেশন বা পরিচালনা করেন ইলমার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ইয়াসমিন আক্তার। এছাড়া সামগ্রিক সমন্বয়ে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রকল্প সহকারী সমন্বয়কারী সেঁজুতি ধর এবং প্রকল্প কর্মকর্তা হালিমা আক্তার লিজা।