প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ এএম
2008
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। ঐতিহাসিক একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ ধ্বনিত হতে থাকলে রাষ্ট্রপতি প্রথমে শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। তার পরপরই প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিরোধীদলীয় নেতারা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করলে সর্বস্তরের জনগণের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর হাজারো মানুষ ফুল হাতে, খালি পায়ে এবং একুশের গান গুনগুন করতে করতে শহীদ মিনারে এসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর এদিন পালিত হয় অমর একুশে। ভাষা আন্দোলনের এই আত্মত্যাগ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনার এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি শহীদ মিনার সংলগ্ন দেয়াল ও সড়ক চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আলপনা ও রঙের আঁচড়ে সজ্জিত হয়, যা পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর ও গম্ভীর আবহে রূপ দেয়।
অমর একুশে বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, ভাষাগত অধিকার এবং সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়।