প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
1686
০১ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি এখনই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন—নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), তার দুই বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ঘরে প্রবেশ করলে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে পূর্বেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।