প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
1683
০১ মে ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
জান্নাতুল নাঈমা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এক নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই আচার তৈরি করে গড়ে তুলেছেন সফল ব্যবসা। পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী জান্নাতুল নাঈমা চাকরির পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আচার তৈরি করে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। তাঁর তৈরি আচার এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও পৌঁছাচ্ছে।
সম্প্রতি মিরসরাইয়ের সদর ইউনিয়নের সুফিয়া রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরের এক কোণে সারি সারি সাজানো আচারের কৌটা। রান্নাঘরের চুলায় কাঁচা আম সেদ্ধ করে মসলার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের আচার। পুরো প্রক্রিয়াটিই নিজ তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করেন নাঈমা।
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় অবসর সময়কে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই তাঁর এই উদ্যোগের শুরু। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট পরিসরে আচার বিক্রি শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। বর্তমানে ‘নাঈমার আচার’ নামে একটি ফেসবুক পেজের পাশাপাশি সরাসরি বিক্রিও করছেন তিনি।
পরিবারের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছেন নাঈমা। তাঁর স্বামী কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা করেন এবং একজন সহকারী প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করেন। তিনি বরই, তেঁতুল, জলপাই, আম, আমড়া, চালতা, আমলকী ও রসুনসহ বিভিন্ন ফল দিয়ে আচার তৈরি করেন।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কেজি আচার উৎপাদন করছেন তিনি। এতে বছরে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, ইতালি, ইংল্যান্ড, কানাডা, সৌদি আরব, কাতার ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর আচার পৌঁছাচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে আসা পরিচিতজনদের মাধ্যমে এসব পণ্য সংগ্রহ করেন।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে নাঈমা বলেন, তিনি যেমন আচার খেতে ভালোবাসেন, তেমনি তৈরি করতেও আগ্রহী। করোনার সময়ের অবসর তাঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ দেখিয়েছে, যা এখন নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
তার পণ্যের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আচার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্যদেরও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁর এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করেন, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন—নাঈমা তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।