সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি মেরে হত্যা, পুড়িয়ে লাশ গুমের চেষ্টা; স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১১:২৯ এএম

1695

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি মেরে হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে গুমের চেষ্টা করার ঘটনায় স্বামী মো. মামুনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশে আগুন ধরিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে তাকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাভোগ করতে হবে।

ঘটনাটি ঘটে প্রায় নয় বছর আগে সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপার এলাকার একটি গুচ্ছগ্রামে। নিহত রাবেয়া বেগম ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। আদালতের রায়ে জানা যায়, ওই ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারান রাবেয়া এবং তার গর্ভে থাকা দুই সন্তান।

মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে একই এলাকার রাবেয়া বেগমের সঙ্গে ভ্যানচালক মো. মামুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরে আবার অন্তঃসত্ত্বা হন রাবেয়া। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরপর কন্যাসন্তান জন্ম হওয়ায় মামুন মানসিকভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন। গর্ভে আবার যমজ সন্তান রয়েছে জানার পর তিনি ধারণা করেন, এবারও কন্যাসন্তান জন্ম নেবে। এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো।

২০১৭ সালের ২৩ মে রাবেয়ার জন্য ওষুধ আনার কথা ছিল মামুনের। কিন্তু তিনি ওষুধ না আনায় এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তলপেটে লাথি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাবেয়ার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে তিনি নিজের ভ্যানে করে স্ত্রীর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি নির্জন বিলে নিয়ে যান এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন।

ঘটনার পর রাবেয়ার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ওই বিল থেকে রাবেয়ার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, রাবেয়ার গর্ভে থাকা যমজ সন্তান দুটিই ছেলে ছিল।

এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি কামাল পাশা বাদী হয়ে সন্দ্বীপ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন মামুনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে লাথি মেরে হত্যা এবং মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আদালতেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ মামুন ও তার চাচা ইমাম হাফেজকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক মো. শাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও অপর আসামি ইমাম হাফেজকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামুন ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতেন। তবে রায় ঘোষণার আগেই তিনি পলাতক হন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার বাদী কামাল পাশা বলেন, আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করা উচিত। তিনি বলেন, ছেলে বা মেয়েসন্তান নিয়ে সমাজে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয় এবং এমন নির্মম ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারে না ঘটে।

Link copied!