প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১২:০১ পিএম
1695
২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
ফরিদপুরের রাজবাড়ী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মা ও মেয়ের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত জাহানারা আক্তারের বাবা লালন মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাহানারা আক্তার (৩০) মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নারান তেওতা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় সাত বছর আগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার আমজাদ শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল, যার নাম সাবিনা আক্তার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ৪ মে জাহানারা তার মেয়ে সাবিনাকে নিয়ে রাজবাড়ীর চর দৌলতদিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানির অনুষ্ঠানে যান। এরপর থেকেই মা ও মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই স্বামী আমজাদ শেখ শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান, জাহানারা ও সাবিনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন ৫ মে তিনি গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অন্যদিকে মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে জাহানারার বাবা লালন মোল্লা জামাতা আমজাদ শেখকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ১৪ মে বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন একটি গর্তের ভেতরে কলাগাছ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মরদেহ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
প্রথমে গোয়ালন্দ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে এলাকাটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার আওতাধীন হওয়ায় মরদেহ দুটি সেখানে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় ১০ দিন গর্তে পড়ে থাকায় মরদেহ দুটি গলে বিকৃত হয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বাবা লালন মোল্লা বলেন, অভাবের কারণে তার মেয়ে প্রায়ই আর্থিক সহায়তা চাইত এবং তিনি সাধ্যমতো সাহায্য করতেন। কিন্তু এভাবে মেয়ে ও নাতনিকে হারাতে হবে, তা কখনও ভাবেননি।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আশা করছে পুলিশ।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।