শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৪১ এএম

1704

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই নগরীর খুলশী, বায়েজিদ ও ডবলমুরিং এলাকায় নতুন করে আরও দুটি শিশু ধর্ষণ এবং একটি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ ইতিমধ্যে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, অন্য এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নগরীর খুলশী থানার আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদ মক্তবে দুই সহোদর বোনকে (বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে অন্য কোনো শিক্ষার্থী মক্তবে না গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক সুনির্দিষ্টভাবে এই দুই বোনকে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় পর স্বজনরা মক্তবটির একটি কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতের দিকে শিশুরা তাদের সঙ্গে ঘটা 'খারাপ স্পর্শ' ও নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী দুই শিশুকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে।

একই দিন শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদ নগর এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুকে নিজের ঘরে নিয়ে নির্যাতন চালায় হাসান। পরে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনাটি খুলে বললে স্বজনরা বায়েজিদ থানায় মামলা দায়ের করেন। বায়েজিদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, মামলার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত যুবকসহ পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই যুবকের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো নগরী জুড়েই এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Link copied!