প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
1701
১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি সরোয়ার
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছরওয়ার হোসেনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত (বহিষ্কার) করা হয়েছে। এই সাংগঠনিক শাস্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ নেতা-কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সিলেট জেলা বিএনপির এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলীয় যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তটি যৌথভাবে অনুমোদন করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মো. ছরওয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে জেলা বিএনপি। উক্ত নোটিশে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়া গেলে বা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক না হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
স্থানীয় দলীয় ও বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, বিগত ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার নিরীহ মানুষকে হত্যার মতো মিথ্যা মামলায় জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন থানার অপরাধীদের সাথে আঁতাত করে উপজেলার সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকার ‘মামলা বাণিজ্য’ করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তিনি দলের নাম বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসনে অবৈধ প্রভাব খাটাতেন এবং পুলিশের সাথে আঁতাত করে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে অল্প দিনেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান।
স্থানীয় ইউনিয়নবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনিয়নের একজন সুনামধন্য চেয়ারম্যানকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করেন সরোয়ার। পরবর্তীতে সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের আপন ভাই—যিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও ইউপি সদস্য, সেই আলতাফ হোসেনকে জোরপূর্বক চেয়ারম্যানের আসনে বসিয়ে দেন।
এছাড়া গেল কুরবানির ঈদের আগে বিয়ানীবাজার পৌরসভার পশুর হাটের ইজারার টাকা নিয়ে প্রভাব খাঁটাতে পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে নাজেহাল ও লাঞ্ছিত করেন তিনি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দলীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করতে সরোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে ও গোপনে বিরোধী শিবিরের হয়ে কাজ করেন। যার ফলে সরোয়ারের নিজের ভোট কেন্দ্রেই দলীয় প্রার্থীর চরম ভরাডুবি ঘটে। এসব বহুবিধ শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরেই অবশেষে জেলা বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।