প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
1696
১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ঘোষিত নতুন প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কোনো কাঠামোগত সংস্কার সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা করে বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত ও কাল্পনিক। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে কখনোই এক অর্থবছরে এত বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। এনবিআরের বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের সনাতন কাঠামো রয়েছে, তা আমূল সংস্কার না করে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
সরকারের এই নতুন বাজেটকে অত্যন্ত ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় ধরনের বৈপ্লবিক সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা ও দর্শন আমরা দেখলাম, তাতে কোনো গভীর অর্থনৈতিক সংস্কারের সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হয়নি।”
তবে বাজেটের কিছু জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা কিছু সৃজনশীল ও জনবান্ধব জায়গা দেখিয়েছে। বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, দেশের বর্তমান আমলাতান্ত্রিক সক্ষমতায় শেষ পর্যন্ত তা মাঠপর্যায়ে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হবে—তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।”
সম্প্রতি দেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এ দেশে এভাবে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ‘১১ দলীয় জোট’-এর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি পালন করছি।”
প্রস্তাবিত বাজেটে সুশাসনের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশাল বাজেট কীভাবে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বন্ধ করবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা এখানে নেই। অভিজ্ঞতা বলে, বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ লোপাট করারও নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা গ্রামীণ খাল খনন কর্মসূচির কথা বাজেটে বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বিপুল বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈষম্য করা হচ্ছে—তারা এই কাজগুলো কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা ও সুশাসন নেই। বাজেটে আর্থিক খাতের মূল ক্ষত তথা দুর্নীতি ও শীর্ষ ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো আইনি বা কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।”