প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
1693
১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশজুড়ে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, প্রশ্নফাঁসমুক্ত এবং নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজন করতে এক কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। পূর্ববর্তী পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি বোর্ড থেকে তদারকি করার জন্য সব কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরার ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড, ক্যামেরার ব্র্যান্ড এবং ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বরসহ বিস্তারিত গোপনীয় তথ্য চেয়েছে ঢাকা বোর্ড।
একইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ যাতে লাইভ বা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়, সেজন্য কেন্দ্রের ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) এবং নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডারের (এনভিআর) সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ চালু করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুনের মধ্যে এসব গোপনীয় তথ্য ও অ্যাক্সেস বোর্ডে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক জরুরি ও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশ্যে এমন কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সিসিটিভি ব্যবস্থার কার্যক্রম নিয়মিত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ডিভিআর ও এনভিআরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রগুলোকে তাদের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরার অনলাইন আইডি ও পাসওয়ার্ড, ক্যামেরার ব্র্যান্ড এবং মূল ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত টেকনিক্যাল তথ্য আগামী ২১ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে তথ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনানুযায়ী, ই-মেইল পাঠানোর সময় এর সাবজেক্ট বা বিষয় হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সিসিটিভি [স্পেস] ইআইআইএন নম্বর’ লিখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে ‘সিসিটিভি ৮৮৮৮৮৮’ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষা কেন্দ্রকে অবশ্যই নিজেদের নির্দিষ্ট ইআইআইএন নম্বরটি ব্যবহার করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষা процессов স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জরুরি। তাই কোনো ধরনের অবহেলা না করে নির্ধারিত শেষ সময়সীমার মধ্যেই সঠিক তথ্য পাঠাতে সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য না পাঠালে বা ইন্টারনেট সংযোগে ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড সূত্র।