প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
1686
০১ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সদস্য সংগ্রহ ও দল সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারই হবে সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রধান মানদণ্ড।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বঞ্চিত, বহিষ্কৃত কিংবা সক্রিয় কিন্তু উপেক্ষিত নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীদেরও দলে যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।
বহুমাত্রিক সম্প্রসারণ কৌশল
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মানুষ দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেতারাও রয়েছেন।
দলটির ভাষ্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নন—এমন যে কেউ এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। এমনকি “ভালো ছাত্রলীগ” থেকেও কেউ এলে তার জন্য দরজা খোলা—এমন বার্তাও দিয়েছেন নেতারা।
নতুন মুখ, নতুন সমীকরণ
সম্প্রতি আমার বাংলাদেশ পার্টি এবং আপ বাংলাদেশ–এর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান রিফাত, শাহরিন সুলতানা ইরা ও রিফাত রশিদ।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের শক্তিকে আবারও একত্র করার প্রয়াস চলছে। তাঁর মতে, দেশে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি।
টার্গেটে বঞ্চিত নেতারা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া কিংবা নিজ দলে কোণঠাসা হয়ে পড়া নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে এনসিপি। বিশেষ করে বিএনপির কিছু অসন্তুষ্ট নেতাকে ঘিরে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন রুমিন ফারহানা এবং ইসহাক সরকার। যদিও রুমিন ফারহানা এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইসহাক সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ভাবছেন। তাঁর বক্তব্য, জনগণের পাশে থাকার রাজনীতি চালিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
বিকল্প রাজনীতির বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, গণআন্দোলনের পটভূমি এবং বহুমুখী অন্তর্ভুক্তির বার্তা দিয়ে এনসিপি নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে। শুধু নতুন সদস্য সংগ্রহ নয়, দলটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটধর্মী প্ল্যাটফর্ম তৈরির দিকেও এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলটির লক্ষ্য—বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন শক্তিকে এক ছাতার নিচে এনে জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করা।