প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
1678
০১ মে ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে অধিবেশনকক্ষের ‘সবুজ চেয়ার’-এর তাৎপর্য, দায়িত্ববোধ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদের এই চেয়ার দেখতে যতটা আরামদায়ক মনে হয়, বাস্তবে তা মোটেও তেমন নয়; বরং এটি দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন—এটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। বাইরে থেকে মনে হয় বসতে আরামদায়ক, কিন্তু আসলে তা নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, এই চেয়ারে বসার পর থেকেই একজন প্রতিনিধির ওপর যে দায়িত্ব এসে পড়ে, তা প্রতিনিয়ত তাকে চাপের মধ্যে রাখে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই চেয়ারে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যেন তপ্ত আগুনের হিট আসছে। বিষয়টি হাসির নয়—আমি যা অনুভব করি, সেটাই বলছি।” তার ভাষায়, এই চাপই একজন নীতিনির্ধারককে বাস্তবতা বুঝতে শেখায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের এই আসন শুধু ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে বসে সবসময় দেশের মানুষের কথা চিন্তা করতে হয়। “আমি চাইলে হয়তো এমন অনেক কথা বলতে পারতাম, যেগুলো শুনে সবাই তালি দিত। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে—সব সময় জনপ্রিয় কথা বলা যাবে না,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রশংসা পাওয়া বা জনপ্রিয় হওয়া স্বাভাবিক ইচ্ছা। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই ইচ্ছাকে অনেক সময় দমিয়ে রাখতে হয়। “আমারও ইচ্ছে করে—জোরে জোরে তালি পাই। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে মনে করিয়ে দেয়—না, তোমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়,” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর সংসদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত, যেখানে স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কঠিন হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
বক্তব্যে তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, সংসদকে কার্যকর রাখতে হলে সব সদস্যেরই এই দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সংসদ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করবে।