সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘চুক্তি’, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম

1693

দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অবরোধের পর অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘সমঝোতা চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এই সমঝোতার মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী চুক্তির বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির প্রথম ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি সম্পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অভিনন্দন জানান। ওই বার্তায় তিনি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় লেখেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে চুক্তিটি এখন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের সব বাণিজ্যিক জাহাজ, আপনাদের ইঞ্জিন চালু করুন। তেলের প্রবাহ শুরু হতে দিন!”

পরে আরও একটি পোস্টে ট্রাম্প নিজের কৃতিত্ব দাবি করে লেখেন, “এই দুর্দান্ত চুক্তিটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সাবেক প্রেসিডেন্টই ইরানের সাথে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন; তবে তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এই অঞ্চলের নেতারা প্রথমবারের মতো এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন, যিনি মুখে কথা না বলে প্রকৃত শান্তি অর্জনে সরাসরি সাহায্য করতে পারেন। মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে আগামী শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রণালীটি খুলে দেওয়া হবে। ফলে এই অঞ্চল এবং সারা বিশ্বের জন্য আবারও দুই প্রান্ত দিয়েই জ্বালানি তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে।”

ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লেখেন, “আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিশ্ববাসীকে জানাচ্ছি যে, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি সফল শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই লেবানন সহ সমস্ত সম্মুখ সমরে নিজেদের সব ধরনের সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করেছে।”

তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প এই ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পন্ন করার দাবি করলেও ইরানের সরকারি মহলে এখনো এক ধরণের রহস্যময় নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ‘মেহর নিউজ’ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা দিলেও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই চুক্তির ধারা বা শর্ত নিয়ে স্পষ্ট কোনো পাল্টা বার্তা বা বিবৃতি দেননি। তেহরানের এই নীরবতার পেছনে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অভ্যন্তরীণ খুঁটিনাটি যাচাইয়ের কৌশল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তা সত্ত্বেও, এই চুক্তির খবরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও নতুন করে বৈশ্বিক মন্দার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

Link copied!