বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবি: নিখোঁজ ২৫০, আছেন বাংলাদেশি নাগরিকও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

2

আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।

জানা যায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ভারসাম্য হারিয়ে একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, এ মর্মান্তিক ঘটনা দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি সংকট এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের একটি কঠিন প্রতিফলন। রাখাইন রাজ্য-এ চলমান সহিংসতা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এছাড়া মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরে জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সেখানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে উচ্চ আয়ের প্রলোভন এবং পাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য মানুষকে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করছে। এর সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারীরা অসহায় মানুষকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আন্দামান সাগর ইতোমধ্যেই এ ধরনের বহু প্রাণহানির সাক্ষী হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখে এবং সংহতি আরও জোরদার করে। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ যখন নতুন বছর উদযাপন করছে, ঠিক সেই সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্ববাসীকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।

সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

Link copied!