প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
1717
১৬ জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারে। এতে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এশিয়ার দেশগুলো মূলত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে এই বেঞ্চমার্কের প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২৬ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল WTI বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের কারণে এবার সেই সময়ের তুলনায় আরও দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর প্রভাব দেখা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
হরমুজ প্রণালি, যা আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধ আরোপ করে। এরপর থেকেই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।